চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের অনিয়ম তদন্তে দুদক

চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউল করিমের অনিয়ম তদন্তে দুদক
18px
Dainik Ishanঈশান/প্রবি২৪ এপৃল, ২০২৬, ৫:২৮ AM

ট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অনিয়ম তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২-এর সহকারী পরিচালক সম্প্রতি মো. রাজু আহমেদ এ বিষয়ে চিঠি দেন বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনকে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে শ্রমিক, কর আদায়কারী, অফিস সহায়ক, সড়ক তদারককারী, সুপারভাইজার ও সড়ক পরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদে বিপুল জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিশেষ করে তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে অন্তত ১৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এসব নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড এবং নিয়োগপত্রসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং পরে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পদায়ন করা হয়। শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিয়েই একলাফে উচ্চ গ্রেডের পদে পদায়ন করা হয়েছে অন্তত ৬৪ জনকে, যা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।

চসিকের জনবল কাঠামো অনুযায়ী, শ্রমিক পদ ২০তম গ্রেডের হলেও, সেখান থেকে সরাসরি ১০ম গ্রেডের উপসহকারী প্রকৌশলী, ১৬তম গ্রেডের কর আদায়কারী বা অনুমতিপত্র পরিদর্শক পদে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া রেজাউল করিম চৌধুরীর আমলে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে মারধরের ঘটনাও ঘটে, যা তখন বেশ আলোচিত হয়। কাজের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকৌশলী মো. গোলাম ইয়াজদানী ঠিকাদারদের হামলার শিকার হন।

সাবেক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মেয়াদকালে নগরের চারটি ওয়ার্ডে বাসাবাড়ি ও দোকান-অফিস থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহ (ডোর-টু-ডোর) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করে সিটি করপোরেশন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—মেসার্স পাওয়ার সোর্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট সার্ভিস ও চান্দগাঁও ক্লিনার্স সার্ভিস। এসব প্রতিষ্ঠান তৎকালীন মেয়র ও এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠদের মালিকানাধীন ছিল বলেও বিতর্ক তৈরি হয়।

এ ঘটনায় সাবেক মেয়রের ব্যক্তিগত নথি, তার দায়িত্বকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে কার্যাদেশ প্রদানের দলিল এবং বর্জ্য সংগ্রহের চুক্তিপত্রসহ সব প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ তলব করেছে দুদক। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এসব নথি জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিটি কর্পোরেশনকে।

চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ঈশান/প্রবি

মন্তব্য করুন